জীবিত মেয়েকে নিতে আসার কথা ছিল, এখন লাশ নিতে হলো : বৃষ্টির বাবা

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেছেন, মেয়েকে এভাবে মরদেহ হয়ে দেশে ফিরতে হবে—এ জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, আগামী ১৭ জুলাই রাতে বৃষ্টি দেশে ফিরবেন এবং তারা বিমানবন্দরে তাকে বরণ করে নেবেন। কিন্তু তার আগেই তাকে নিতে আসতে হলো, তবে জীবিত নয়, মরদেহ হিসেবে।

শনিবার (৯ মে) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেয়ে বৃষ্টির মরদেহ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের কাছে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

জহির উদ্দিন আকন বলেন, ছোট বেলা থেকেই বৃষ্টির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল অনেক বড় কিছু করার। অত্যন্ত পরিশ্রম করে পড়াশোনা করতেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি ধর্মীয় জ্ঞানেও ছিলেন সমৃদ্ধ। কোরআন-হাদিস সম্পর্কে ভালো জ্ঞান ছিল তার এবং নামাজ-কালামে কখনো অবহেলা করেননি। একপর্যায়ে স্কলারশিপ পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান বৃষ্টি। সেখানে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা ছিল তার। বিশেষ করে গ্রামের অসহায় ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গ্রামের বাড়িতে বৃষ্টির নকশা করা একটি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। পরিবারের আশা ছিল, দেশে ফিরে মেয়েই বাড়িটি উদ্বোধন করবেন। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। তার স্বপ্ন ছিল ‘ড. নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি’ নামে পরিচিত হওয়া। যদিও তিনি একটি সনদ অর্জন করেছেন, সেটি এসেছে মরণোত্তরভাবে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে জহির উদ্দিন আকন বলেন, আমি সবার কাছে মেয়ের জন্য দোয়া চাই। একই সঙ্গে হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করি। অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন কুখ্যাত ঘাতক এ কথা বিশ্ববাসী জানে। বাংলাদেশের প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও যেন হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি, মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার বিষয়ে জোরালো অবস্থান নেওয়া হয়, সেই প্রত্যাশা জানাই।

এর আগে, সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তার মা-বাবা, ভাই, মামাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বিইএআর সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

» মোল্লা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেফতার

» চোটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইংল্যান্ড দুই সিরিজ থেকেই ছিটকে গেলেন ফাজাল

» যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে সোমবার দিল্লি যাচ্ছেন মমতা

» শাপলা চত্বর হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে ২৭ জুলাই: চিফ প্রসিকিউটর

» দুপুরের মধ্যে সাত জেলায় বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

» আজ শনিবার রাজধানীর যেসব দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ

» কার্ডের নামে বেকারত্বে উৎসাহ দিচ্ছে সরকার : হাসনাত আবদুল্লাহ

» রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণে হাফিজ উদ্দিনকে ফুলেল শুভেচ্ছা

» রবিবার বঙ্গভবন ছাড়বেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

জীবিত মেয়েকে নিতে আসার কথা ছিল, এখন লাশ নিতে হলো : বৃষ্টির বাবা

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেছেন, মেয়েকে এভাবে মরদেহ হয়ে দেশে ফিরতে হবে—এ জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, আগামী ১৭ জুলাই রাতে বৃষ্টি দেশে ফিরবেন এবং তারা বিমানবন্দরে তাকে বরণ করে নেবেন। কিন্তু তার আগেই তাকে নিতে আসতে হলো, তবে জীবিত নয়, মরদেহ হিসেবে।

শনিবার (৯ মে) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেয়ে বৃষ্টির মরদেহ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের কাছে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

জহির উদ্দিন আকন বলেন, ছোট বেলা থেকেই বৃষ্টির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল অনেক বড় কিছু করার। অত্যন্ত পরিশ্রম করে পড়াশোনা করতেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি ধর্মীয় জ্ঞানেও ছিলেন সমৃদ্ধ। কোরআন-হাদিস সম্পর্কে ভালো জ্ঞান ছিল তার এবং নামাজ-কালামে কখনো অবহেলা করেননি। একপর্যায়ে স্কলারশিপ পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান বৃষ্টি। সেখানে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা ছিল তার। বিশেষ করে গ্রামের অসহায় ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গ্রামের বাড়িতে বৃষ্টির নকশা করা একটি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। পরিবারের আশা ছিল, দেশে ফিরে মেয়েই বাড়িটি উদ্বোধন করবেন। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। তার স্বপ্ন ছিল ‘ড. নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি’ নামে পরিচিত হওয়া। যদিও তিনি একটি সনদ অর্জন করেছেন, সেটি এসেছে মরণোত্তরভাবে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে জহির উদ্দিন আকন বলেন, আমি সবার কাছে মেয়ের জন্য দোয়া চাই। একই সঙ্গে হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করি। অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন কুখ্যাত ঘাতক এ কথা বিশ্ববাসী জানে। বাংলাদেশের প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও যেন হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি, মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার বিষয়ে জোরালো অবস্থান নেওয়া হয়, সেই প্রত্যাশা জানাই।

এর আগে, সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তার মা-বাবা, ভাই, মামাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com